গাজীপুর জেলার সেরা দর্শনীয়স্থান : ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সেরা গাইড। গাজীপুর জেলা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। ঢাকা থেকে নিকটবর্তী হওয়ায় প্রতিদিন শত শত পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। গাজীপুরের সেরা দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, বাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক, নুহাশ পল্লী, বাওয়াল রাজবাড়ি এবং ঐতিহাসিক একডালা কেল্লা। প্রকৃতি, ইতিহাস ও বিনোদনের সমন্বয়ে গাজীপুর ভ্রমণ সবার জন্য আকর্ষণীয়। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানো, শিক্ষা সফর কিংবা একদিনের পিকনিকের জন্য গাজীপুর আদর্শ স্থান। সবুজ শালবন, বন্যপ্রাণী, জমিদার বাড়ি ও রিসোর্টগুলো ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে। আপনি যদি ঢাকা থেকে নিকটস্থ ভ্রমণ গন্তব্য খুঁজে থাকেন, তবে গাজীপুর জেলার দর্শনীয়স্থানগুলো হবে আপনার জন্য সেরা গাইড। গাজীপুর জেলার সেরা দর্শনীয়স্থানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ক) কেন জনপ্রিয়?
✅এই পার্কটি ৩,৮১০ একর শাল বনের মধ্যে অবস্থিত, যা এটিকে একটি বিশাল অরণ্যের সঙ্গে সংযুক্ত জনসংযোগ স্থল হিসেবে তোলে।
✅পার্কটি থাইল্যান্ডের “সাফারী ওয়ার্ল্ড” ও ইন্দোনেশিয়ার “বালি সাফারি পার্ক” মডেলের অনুপ্রেরণা নিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
✅এখানে একটি “কোর সাফারি (Core Safari)” অংশ আছে, যেখানে সাধারণ যানবাহনে বসেই মানুষ বন্যপ্রাণী তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে দেখতে পারে — এটি দর্শকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।
✅পার্কে বিভিন্ন বিভাগ আছে — যেমন Safari Kingdom (পাখি, গিরগিটি, ক্রোকোডাইল, প্রভৃতি), Biodiversity Park, শিশু পার্ক, Bangabandhu Square ইত্যাদি।
✅পর্যটক ও পরিবারবর্গদের জন্য এটি নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা ও বিনোদনের সমন্বয় ঘটায় — শিশু, প্যারেন্টস, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।
– সিংহ, বাঘ, জেব্রা, হরিণ, বানর, গয়াল, কুমির ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।
– পাখি পার্ক, বায়োমেরুজ পার্ক, জীবাশ্মিক প্রাণী ও উদ্ভিদ বিভাগের উপস্থিতি শিক্ষামূলক ও মনোমুগ্ধকর।
– কোর সাফারি অংশে অনুমোদিত বাস/মিনি বাসে চড়েই দর্শক প্রাণীদের প্রকৃতিতে ঘোরে দেখেন—এটি অধিক প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা।
– পার্কের তথ্য ও শিক্ষা কেন্দ্র, ইতিহাস মিউজিয়াম, উদ্ভিদ ও প্রাণী জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত প্রদর্শনী দর্শককে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
– শিশুপার্ক, হাঁটার পথ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, নৈসর্গিক দৃশ্য সব মিলিয়ে এক দিন কাটানোর জন্য ভালো বিকল্প।
নিচে কিছু জনপ্রিয় পথ ও নির্দেশনা:
| যাত্রাপথ | বিবরণ |
|---|
| ঢাকা থেকে সড়ক পথে | ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ বা গাজীপুর প্রধান সড়ক ধরে যাওয়া যায়। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ব্যবহার করলে গাজীপুর পৌঁছানো সহজ।
গাজীপুর এলাকা থেকে পার্কে পৌঁছাতে “বাঘের বাজার / ইদ্রপুর বাজার” থেকে প্রায় ৩ কিমি পশ্চিম দিকে ফটকের রাস্তা রয়েছে।
|
| বাস ও পাবলিক পরিবহন | ঢাকা থেকে গাজীপুর বা ময়মনসিংহগামী বাস ধরে “বগের বাজার / ভবানীপুর বাজার” নামক স্টপ এ নামতে হবে, তার পরে দ্রুতগতির অটো বা ট্যাক্সি ব্যবহার করে সাফারি পার্কে যাওয়া যাবে।
|
| ব্যক্তিগত গাড়ি / ট্যাক্সি / ভাড়া গাড়ি | গাড়ি থাকলে ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়ক ধরে যাওয়া ভালো। গাজীপুর এলাকায় পৌঁছার পর সাফারি পার্কের সাইন বোর্ড অনুসরণ করলে গিয়ে পৌঁছানো সহজ। |
দ্রষ্টব্য: যানবাহনের যাত্রা সময় ট্রাফিক ও রাস্তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
✅পার্ককে ঘুরে দেখার জন্য সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা সময়টা ভালো — বেশি জনসমাগম ও পরিবহন সুবিধার কারণে এই সময়টি সর্বস্তরে জনপ্রিয়।
❌সপ্তাহের মঙ্গলবাড়া (Tuesday) বন্ধ থাকে।
✅শীতকাল (নভেম্বর – ফেব্রুয়ারি) বিশেষভাবে ভালো সময়—আবহাওয়া ভালো থাকে ও গাছপালা সবুজ থাকে, এবং পর্যটকের সংখ্যা দূরবর্তী হয়ে যায়।
✅গরম সময় (মার্চ থেকে মে) ও বর্ষাকাল কিছু সমস্যাসহ হতে পারে — প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টিপাত বা গর্তপূর্ণ রাস্তা যাত্রাকে কঠিন করতে পারে।
✅ভাওয়াল উদ্যান একটি বিশাল এবং পুরনো শালবনের অংশ, যা ৫,০২২ হেক্টর বনভূমির মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছে।
✅এখানে রয়েছে বনভূমির বিভিন্ন উদ্ভিদপ্রজাতি, ঔষধি গাছ, লতা-গুল্ম ও মৌলিক জীববৈচিত্র্য যা প্রকৃতি প্রেমীদের আকৃষ্ট করে।
✅শহরের কাছাকাছি হওয়ায় ঢাকা ও গাজীপুর থেকে দ্রুত যাওয়া যায়, তাই সপ্তাহান্তে বা এক দিনের ট্রিপের জন্য আদর্শ গন্তব্য।
✅প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজ বনভূমি — শান্ত পরিবেশ, পাইন-পথ, হাঁটার পথ ও টাওয়ার থেকে দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ।
✅বন্যপ্রাণী-দৃশ্য — বানর, হরিণ, পাখি-প্রজাতি, সরীসৃপ ও অন্যান্য প্রাণীর দেখা মেলে।
✅বিনোদন ও পিকনিক — উদ্যানের বিভিন্ন পিকনিক স্পট, ছায়াঘেরা বেঞ্চ, রেস্ট হাউস ও কটেজ রয়েছে যেখানে পরিবার-বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো যায়।
✅শহরের উত্তাপ থেকে পালিয়ে প্রকৃতির কাছে সময় কাটানো — দ্রুত পোছনযোগ্য গন্তব্য, দূরে যেতে না চাইলে এটা ভালো বিকল্প।
✅
গাড়িতে / প্রাইভেট গাড়ি: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে Joydebpur চওড়াস্তায় পৌঁছুন, সেখান থেকে উদ্যানের প্রবেশপথ চিহ্নিত রয়েছে।
✅
বাস / পাবলিক পরিবহন: ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী কোনো বাসে উঠুন এবং Joydebpur / Rajendrapur স্টপে নামুন। সেখান থেকে অটো‐রিকশা বা ইজি বাইক ব্যবহার করে উদ্যানের গেটে পৌঁছানো যায়।
গাড়ি খরচ ও প্রবেশ ফি: সাধারণ প্রবেশমূল্য প্রায় ৫-২০ টাকা, যানবাহন হলে একটু বেশি। প্রাইভেট গাড়ি, মাইক্রোবাস/মিনি বাসের জন্য পৃথক ফি আছে।
✅শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): তাপমাত্রা স্বস্তিদায়ক থাকে, আর্দ্রতা কম ও বাতাস পরিষ্কার থাকে। প্রকৃতি উপভোগ করা যায়, হাঁটা-চলা ও ছবি তোলার জন্য উপযুক্ত সময়।
❌বর্ষার পরবর্তী সময় (জুন-সেপ্টেম্বরের শেষে / অক্টোবর-নভেম্বরের শুরুতে): সবুজের রঙ তাজা হয়, ঝরনা-পুকুরে জল থাকে, তবে রাস্তা ও পথ পিচ ছড়ানো থাকতে পারে।
✅দুপুরে গরম থাকে, তাই সকাল-বিকাল সময় বেশি ভালো হবে। সকাল-সাড়ে ৮টা থেকে দুপুরের আগের সময় বা বিকেলের শেষ দিকে ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
,%20Pirujali,%20%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0.png) |
|
✅নুহাশ পল্লী হলো প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদের কল্পনা ও প্রেম দিয়ে গড়া একটি মনোরম বাগান বাড়ি ও পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র। পিরুজালি গ্রামের প্রায় ৪০ বিঘা জায়গায় এটা তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রচুর গাছপালা (ফল, ঔষধি, বনগাছ) রয়েছে।
✅এই জায়গাটি তার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সবুজ বনাঞ্চল ও রিল্যাক্সড পরিবেশের জন্যে সবাইকে মুগ্ধ করে। সাথেই আছে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি ও তাঁর সাহিত্যকর্মের স্পর্শ পাওয়া যায় — কবিতা, উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের দৃশ্যগুলো এখানে করা হয়েছে।
✅প্রকৃতি & সবুজ পরিবেশ: ফলের বাগান, লিচু, ম্যাঙ্গো, ঔষধি গাছ, শালবন-ছায়া ও মনোরম মাঠ-ঘাট।
✅লেখক হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সাহিত্যিক সম্পর্কিত স্থান হওয়ায় সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে গুরুত্ব রয়েছে।
✅পিকনিক, বন্ধু-পরিবারের সময় কাটানো: কটেজ, বাংলো, ঘাটপথ, পুকুর, সাধারণ হাঁটার পথ এবং শুটিং স্টুডিও রয়েছে।
ঢাকা থেকে: বাসে (ঢাকা → গাজীপুর পথে) “Hotapara” বাস স্ট্যান্ডে যেতে হবে। বাস ভাড়া প্রায় ৫০-৭০ টাকা হবে।
প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করলে গাজীপুর চৌরাস্তা → Hotapara → পিরুজালি-নুহাশ পল্লী পথ অনুসরণ করা যাবে। রাস্তার চিহ্নিত পথ ও স্থানীয় নির্দেশনা কাজে
✅সবচেয়ে ভালো সময় শীতকালীণ মাসগুলো, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। আবহাওয়া শীতল ও তাপমাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়, বাইরের সব আকর্ষণ উপভোগের সুযোগ বেশি।
✅সকাল-বিকাল সময় উপযুক্ত: সকাল প্রায় ৯টা থেকে দুপুরের আগে, বিকেলে সূর্য মন্দ পড়ার সময় এসে পড়া ভালো। দুপুরে গরম বেশি অনুভত হতে পারে।
❌বর্ষাকাল কিছুটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে (বর্ষার সময় রাস্তাঘাট খারাপ হতে পারে, দুর্গম ঠাকে)। তাই বৃষ্টি কম থাকা সময় বেছে নেওয়া মঙ্গল।
,Joydebpur,%20%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0.png) |
|
✅এটি একটি ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি, যা Joydebpur-এ অবস্থিত এবং প্রায় ৫ একর জায়গার উপর গড়ে উঠেছে।
✅রাজা কালি নারায়ণ রায় নির্মাণ করেন এবং রাজবাড়ীর পাশাপাশি রয়েছে রাজপরিবারের শ্মশান, মন্দির ও বাগান।
✅“ভাওয়ালের সন্ন্যাসী মামলা (Bhawal Sannyasi Case)”-এর কারণে এর ইতিহাসে বিতর্ক ও কিংবদন্তি রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের কৌতূহল উদ্রেক করে।
✅ভাওয়াল রাজবাড়ীর স্থাপত্য, পুরাতন রাজবাড়ির আভিজাত্য এবং জমিদার আমলের স্মৃতি আজও দেখা যায়; এর এক অংশ বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়।
✅ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক: জমিদারবাড়ির পুরাতন কক্ষ, রাজপরিবারের ইতিহাস, সন্ন্যাসী রাজা মামলার প্রেক্ষাপট—সব মিলিয়ে ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়।
✅** স্থাপত্য ও নান্দনিক চরিত্র**: পুরনো রাজপ্রাসাদ, মন্দির, ঘাট, শোভাময় উদ্দেশ্যে নকশা ও সৌন্দর্য — যাদের ছবিময় ভ্রমণ প্রিয়, তাদের অনেক পছন্দ।
✅শহরের কাছাকাছি অবস্থান: ঢাকা থেকে বেশি দূরে নয়, দিনের মধ্যে ঘুরে আসা যায়, তাই এক-দিনের যাত্রার জন্য উপযুক্ত বিকল্প।
✅ছবি ও স্মৃতি: প্রাকৃতিক পরিবেশ, পুরনো রাজমহল ও রাজবাড়ির চারপাশের ঐতিহ্যবাহী উপাদান ছবি ও সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ভালো পটভূমি তৈরি করে।
ঢাকা থেকে সড়কপথ: প্রথমে ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা (Gazipur Chowrasta) আসা যাবে বাস বা গাড়িতে।
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে Joydebpur-রাজবাড়ী সড়ক ধরে যাওয়া যায়। সড়ক চিহ্ন ও স্থানীয় নির্দেশনা অনুসরণ করলে সহজে প্রবেশ করা সম্ভব।
বাস ও পাবলিক পরিবহন: ঢাকা থেকে গাজীপুরের বাস ধরে, “শিববাড়ী (Shib Bari)” নামক স্টপে নামতে হবে, এরপর রিকশা বা সিএনজি-ভ্যান ব্যবহার করে রাজবাড়ীতে পৌঁছা যায়।
স্থানীয় পরিবহন: Joydebpur রেলস্টেশন থেকে রিকশা বা ছোট যানবাহন ব্যবহার করা যায়। গাড়ি থাকলে গুগল ম্যাপ বা লোকদের প্রশ্ন করলে নির্দেশ পাওয়া সহজ।
✅শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে ভালো সময়; তাপমাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়, আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং হাঁটা-ফিরা ও ঘোরাঘুরির সময় ভালো হয়।
✅বিকেল ও সকাল-বেলা বেশি উপভোগ্য; দুপুরে গরম বেশি অনুভব হতে পারে। সৌর- ও বাতাসের আলো ভালো পাওয়া যায়।
✅সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনগুলো বেশি শান্ত থাকে; সপ্তাহান্তে ভ্রমণকারীর প্রবাহ বেশি হয়, তাই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কিছুটা ব্যাকুল হতে পারে।
❌বর্ষাকাল হলে বৃষ্টি-আবহাওয়ার কারণে কিছু অংশে রাস্তা মেঘলা ও কাদা-মাটি হতে পারে, তাই বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখে যাওয়া ভালো।
 |
|
✅পুরনো ইতিহাস ও জমিদারী ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে পরিচিত। ঝালমুড়ি সংস্কার ও শিল্পী-নির্ভর স্থাপত্য ও পুরাতন নান্দনিকতা বজায় রেখেছে।
✅এটি তালিবাবাদ পরগনার নয় আনা (nine-anna) অংশের মালিকানা নিয়ে গঠিত, যা ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণ বাড়ায়।
✅স্থাপত্যগতভাবে বড় ও ছোট “তরফ” (বিভিন্ন অংশ) রয়েছে; বড় অংশে বাইরে থেকে দেখতে পাওয়া যায়, ছোট অংশটি এখনো উত্তরাধিকারীদের বাসস্থানে রয়েছে।
✅পুরান-জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য ও ইতিহাস জানতে আগ্রহী মানুষের জন্য উত্তম উৎস। রাজপরিবার, জমিদার কর্তৃত্ব ও স্থানীয় ইতিহাসের পরিসর জানতে এখানে আসা যায়।
✅ছবি তুলতে ভালো পটভূমি: পুরনো বাড়ি, খাঁটি নকশা, বড় দরজা-জানালা, পুরাতন কাঠ ও ইটের কাজ — সবই ফটোগ্রাফির জন্য মনোরম।
✅নাটক-সিনেমা শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয় ছোট তরফ; বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাতারা এখানে ধারণা অনুসন্ধান করেন।
✅শহরের নিকট অবস্থান ও সহজ যাতায়াত হওয়ায় এক দিনের ঘুরে আসা-ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য।
বাস/পাবলিক পরিবহন ব্যবহার করলে: ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর যাওয়ার বাস ধরুন। রাজধানী পরিবহন, মৌমিতা, ইতিহাস, ঠিকানা ইত্যাদি বাস চলমান আছে, যা গাজীপুর/চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর পৌঁছায়।
কালিয়াকৈর বাস স্ট্যান্ড থেকে রিকশা/অটো নেওয়া যাবে শ্রীফলতলী মোড় পর্যন্ত; মোড় থেকে হাঁটে ৫-৬ মিনিটে জায়গাটি পৌঁছানো সম্ভব।
প্রাইভেট গাড়ি থাকলে গুগল ম্যাপ বা লোকাল নির্দেশনা অনুসরণ করলে সহজে পাওয়া যাবে। রাস্তা কিছু অংশে খারাপ হতে পারে, তাই সময় বাড়িয়ে নেওয়া ভালো।
✅শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে ভালো সময়; তাপমাত্রা স্বস্তিদায়ক এবং আকাশ পরিষ্কার থাকে, ছবি তোলার জন্য উপযুক্ত।
✅সকাল এবং বিকেল-শেষ সময় যাওয়া ভালো; দুপুরে গরম বেশি অনুভব হবে।
❌বর্ষাকাল এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ বৃষ্টির পর কিছু রাস্তার বিভাগ কাদার হতে পারে এবং চলাচলের অসুবিধা হতে পারে।
 |
|
✅একদলা দুর্গ প্রায় ৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু করা একটি প্রাচীন দুর্গ, যা ছিল হিন্দু রাজাদের শাসনকালীন কালের নিদর্শন।
✅ইলিয়াস শাহ দ্বারা ১৩৫২ খ্রি. সালে সংস্কার করা হয়, যখন দিল্লির ফিরোজ তুঘলক সম্ভাব্য আক্রমণ করার পরিকল্পনায় ছিলেন। সেই সময় দুর্গটি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
✅পরবর্তীতে নাসির উদ্দিন শাহ (আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র) ১৫১৮-১৫৩২ খ্রি.-তে দুর্গটি আরও মজবুত করেন।
✅মোগল যুগে রাজা টোডরমল এই এলাকা ভাওয়াল পরগণায় অন্তর্ভুক্ত করেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে দুর্গটি ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়। এর ইতিহাস ও কিংবদন্তি ইতিহাস-প্রেমীদের ও গবেষকদের জন্য আকর্ষণ তৈরি করে।
✅
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: সুলতান ফিরোজ তুঘলক, ইলিয়াস শাহ এবং নাসির উদ্দিন শাহদের সময়ের ঘটনা ও দুর্গের প্রতিরক্ষা ইতিহাস জানার সুযোগ।
✅
একদিনের ট্রিপ: ঢাকা থেকে অধিক দূর নয়, সাধারণভাবে দিনে আসা-যাওয়া করা যায়, তাই সপ্তাহান্তে বা অবসরের জন্য ভালো বিকল্প।
✅
ফটোগ্রাফি ও গবেষণা: দুর্গের পুরাতন ধ্বংসাবশেষ, স্থাপত্য ভিত্তি, প্রাচীন প্রাচীর ও ইতিহাসগত স্থানগুলো ছবিতে কিংবা গবেষণার জন্য আকর্ষণ তৈরি করে।
বাস ব্যবহার করে: ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বাস, তারপর গাজীপুর থেকে কাপাসিয়া উপজেলা পর্যন্ত যেতে হবে।
কাপাসিয়া সদর থেকে: সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহন যেমন সিএনজি, রিকশা বা ইজি-বাইক (Easy Bike) নিয়ে তারাগঞ্জ বাজারের দিকে আসা; দুর্গটি তারাগঞ্জ বাজারের পাশে এবং শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত।
প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করলে গুগল ম্যাপ অনুসরণ করলে “Ekdala Fort, Taraganj, Kapasia, Gazipur” হিসেবে নির্দেশিকা পাওয়া যাবে। রাস্তা চিহ্নিত কিছু অংশ আছে।
✅শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে ভালো সময়; গরম কম থাকে, আর্দ্রতা কম থাকে, এবং দিনগুলো স্বচ্ছ ও মনোরম হয়। চিত্রগ্রহণ ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য উপযুক্ত।
✅সকাল ও বিকেল সময় ভ্রমণ করা ভালো; দুপুরে সূর্য খুব তীক্ষ্ণ ও গরম হতে পারে। বিশ্রাম-বেলা সামঞ্জস্য রেখে ভ্রমণ করলে ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
❌বর্ষাতেও ভ্রমণ সম্ভব, তবে বৃষ্টি ও রাস্তার অবস্থা পরীক্ষা করা উচিত; অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় নদীর জলস্তর বাড়তে পারে যা কিছু অংশে প্রবেশপথ বা আশপাশে চলাচল করতে সমস্যা হতে পারে।
 |
|
সুলতানপুর দরগাপাড়া শাহী মসজিদ গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান। এটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো মসজিদ, যা মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
✅
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: মসজিদটি মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
✅
আধ্যাত্মিক বিশ্বাস: এখানে মানত করলে তা পূর্ণ হয় বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস, যা মসজিদটির আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
✅
স্থাপত্যশৈলী: মসজিদটির নির্মাণশৈলী ও গম্বুজ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
✅
ঐতিহাসিক শিক্ষা: ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে শিক্ষার্থীরা ও ইতিহাসপ্রেমীরা এখানে ভ্রমণ করেন।
টোক বাজার থেকে: টোক বাজার থেকে অটো বা রিকশা করে সুলতানপুর দরগাপাড়া গ্রামে পৌঁছাতে হবে।
✅
সকাল ও বিকেল: এই সময় সূর্যের তাপ কম থাকে, যা ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক।
✅
ঈদ ও জুমার দিন: এই দিনগুলোতে মসজিদে বিশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সুলতানপুর দরগাপাড়া শাহী মসজিদ একটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান, যা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অবশ্যই দর্শনীয়।
 |
|
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী ছিল ভাওয়াল রাজ পরিবারের সদস্যদের শবদাহ সৎকারের স্থান। এটি ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত হয়। এখানে মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত সাত স্তম্ভবিশিষ্ট একটি সমাধিস্থল রয়েছে। এছাড়া, শ্মশান চত্বরে একটি শিব মন্দিরও রয়েছে।
স্থাপত্যশৈলী: শ্মশানটির নির্মাণশৈলী ও মোগল স্থাপত্যশৈলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
ঐতিহাসিক শিক্ষা: ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে শিক্ষার্থীরা ও ইতিহাসপ্রেমীরা এখানে ভ্রমণ করেন।
ঢাকা থেকে: ঢাকা থেকে বাসে করে গাজীপুরের শিববাড়ী আসতে হবে।
শিববাড়ী থেকে: শিববাড়ী থেকে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী যেতে হবে।
✅
সকাল ও বিকেল: এই সময় সূর্যের তাপ কম থাকে, যা ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক।
ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী একটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান, যা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য অবশ্যই দর্শনীয়।
এছাড়াও গাজীপুর জেলায় অসংখ্য রিসোর্ট আছে, যা ভ্রমনকারীদের আরামদায়ক রাত্রীযাপন এবং মনোরম পরিবেশ তাদের‘কে বারবার ভ্রমন করার জন্য আকৃষ্ট করে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রিসোর্ট নাম নীচে উল্লেখ করা হলো।
ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট (Dream Square Resort),
জলেশ্বরী রিসোর্ট (Jaleshwari Resort),
সাহেব বাড়ি রিসোর্ট(Sahib Bari Resort),
সাবাহ গার্ডেন রিসোর্ট (Sabah Garden Resort),
অঙ্গনা রিসোর্ট (Angana Resort),
সোহাগ পল্লী (Sohag Palli),
ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট (Dream Square Resort),
মন পুড়া পার্ক (Mon Pura Park),
রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট (Rajendra Eco Resort),
আনন্দ পার্ক রিসোর্ট (Anand Park Resort),
ঢাকা রিসোর্ট (Dhaka Resort),
সীগাল রিসোর্ট (Seagull Resort)
0 Comments