বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড় এর সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান – ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য চূড়ান্ত গাইড।


বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড় এর সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান – ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য চূড়ান্ত গাইড! বাংলাদেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনার অপূর্ব সমন্বয়। তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা, কাজি অ্যান্ড কাজি চা বাগানে সবুজের পরশ, কিংবা ভিটরগড় দুর্গনগরের ইতিহাস – প্রতিটি স্থান পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, রকস মিউজিয়াম ও মির্জাপুর শাহী মসজিদ এই জেলাকে করে তুলেছে অনন্য। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ গন্তব্য। এই গাইডে আমি তুলে ধরেছি পঞ্চগড়ের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান, যা আপনার পরবর্তী ভ্রমণের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণা। চলুন ঘুরে আসি বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড় এর সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান থেকে

🌄 দৃষ্টিনন্দন কাঞ্চনজঙ্ঘা – পঞ্চগড় থেকে দেখা:Stunning Kanchenjunga – Viewed from Panchagarh.

কাঞ্চনজঙ্ঘা শুধু একটি পাহাড় নয়, এটি প্রকৃতি, শান্তি ও সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মিলনমঞ্চ। বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি যেন এক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ অনুভূতি, তাও নিজের দেশ থেকেই। একবার যারা গেছেন, তারা বারবার ফিরে যেতে চান।

ক) কেন জনপ্রিয়?

কাঞ্চনজঙ্ঘা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ (৮,৫৮৬ মিটার), যা ভারতের সিকিম ও নেপালের সীমান্তে অবস্থিত। তবে বিশেষত্ব হলো, বাংলাদেশের একমাত্র জেলা পঞ্চগড় থেকেই এটি খালি চোখে দেখা যায় – বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে। খুব ভোরে সূর্যের আলো কাঞ্চনজঙ্ঘার গায়ে পড়লে রুপালি-সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়ে, যা এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। এই বিরল সৌন্দর্য ও অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য এটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

খ) পর্যটকরা কেন ঘুরতে যায়?

👉🏿পর্যটকরা এখানে ঘুরতে যান:

👉🏿বাংলাদেশ থেকে বিদেশি পর্বতের দৃশ্য দেখতে (যা বিরল)

👉🏿সকাল বেলায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রঙ পরিবর্তনের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে

👉🏿প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে

👉🏿চা বাগান, নদী ও পাহাড়ঘেরা পটভূমিতে শান্তিময় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে।


গ) কিভাবে যাওয়া যায়?

ঢাকা → পঞ্চগড় → তেঁতুলিয়া:

বাসে:By bus👉🏿 ঢাকা থেকে পঞ্চগড় সরাসরি বাস যায় (Green Line, Hanif, Nabil ইত্যাদি), সময় লাগে ১০–১২ ঘণ্টা।

ট্রেনে: By train 👉🏿 পঞ্চগড় এক্সপ্রেস বা Ekota Express ট্রেনে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় – আরামদায়ক ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া: লোকাল বাস, সিএনজি বা মাইক্রোবাসে মাত্র ১–২ ঘণ্টা।

📍 কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় তেঁতুলিয়ার তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকা, শালবন ও নদীতীর থেকে।


ঘ) ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

👉অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য সর্বোত্তম।

👉এই সময়ে আকাশ পরিষ্কার থাকে, ঠাণ্ডা পড়ে, এবং কুয়াশা কম থাকে – ফলে পাহাড় স্পষ্ট দেখা যায়।

☀️ ভোর ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে সূর্যের আলো কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় পড়লে অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।


ঙ) থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা।

🛏️ থাকার ব্যবস্থা:

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো: সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন ও ভিউপয়েন্টে অবস্থিত (আগে বুকিং প্রয়োজন)।

স্থানীয় গেস্ট হাউস ও রিসোর্ট: যেমন

👉🏿Momo Inn Cottage

👉🏿TGB Rest House

👉🏿Local Eco-cottages

পঞ্চগড় শহরেও কিছু ভালো মানের হোটেল আছে – তেঁতুলিয়া থেকে যাতায়াত সহজ।

🍽️ খাবারের ব্যবস্থা:

👉তেঁতুলিয়ায় স্থানীয় রেস্টুরেন্টে ভাত-তরকারি, মাছ, মাংস, এবং নাস্তা হিসেবে পরোটা, ডিম, চা পাওয়া যায়।

👉চা বাগানের কাছাকাছি কিছু ক্যাফে বা টি কর্নার রয়েছে – গরম চা ও হালকা স্ন্যাকস সহ।


🍃 কাজি এন্ড কাজি চা বাগান, তেঁতুলিয়া:Kazi and Kazi Tea Garden, Tentulia. – সবুজের মাঝে শান্তির ঠিকানা।

কাজি এন্ড কাজি চা বাগান শুধু একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, এটি একটি প্রকৃতি ও জীবনের সংযোগের জায়গা। জৈব চা চাষ, পাহাড়ি দৃশ্য, এবং শান্ত পরিবেশ মিলে এটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছে।

ক) কেন জনপ্রিয়?

কাজি এন্ড কাজি (Kazi & Kazi) চা বাগান বাংলাদেশের একমাত্র জৈব (অর্গানিক) চা বাগান, যা পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাগান কেমিক্যাল ফ্রি এবং পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এখানকার উৎপাদিত চা ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।

এছাড়া, সবুজের সমুদ্রের মতো ছড়িয়ে থাকা চা গাছ, পাহাড়ের পাদদেশ, ও নির্মল বাতাস – সব মিলিয়ে এটি পর্যটকদের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য।

খ) পর্যটকরা কেন ঘুরতে যায়?

পর্যটকদের আকর্ষণের প্রধান কারণগুলো হল:

👉🏿সবুজে ঘেরা মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ

👉🏿জৈব চা উৎপাদনের প্রক্রিয়া নিজের চোখে দেখার সুযোগ

👉🏿চা টেস্টিং (Tea tasting) ও চা কেনার অভিজ্ঞতা

👉🏿পাহাড়, নদী ও কাঞ্চনজঙ্ঘার পটভূমি থেকে উপভোগ্য দৃশ্য

👉🏿ফটোশ্যুট ও রিল তৈরির জন্য আদর্শ লোকেশন

👉🏿শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় ভ্রমণ (Educational Tour)


গ) কিভাবে যাওয়া যায়?

ঢাকা → পঞ্চগড় → তেঁতুলিয়া → কাজি এন্ড কাজি চা বাগান।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়:

বাসে: By bus👉🏿Green Line, Shyamoli, Nabil ইত্যাদি – সময় লাগে প্রায় ১০–১২ ঘণ্টা।

ট্রেনে: By train👉🏿পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (নাইট ট্রেন), সময় লাগে ৯–১০ ঘণ্টা।

পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া: লোকাল বাস বা সিএনজি – সময় ১.৫–২ ঘণ্টা

তেঁতুলিয়া থেকে কাজি এন্ড কাজি চা বাগান: সিএনজি বা ভাড়া করা গাড়িতে সরাসরি পৌঁছানো যায় (রাসানপুর গ্রাম, মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত)।

📍 Google Maps এ "Kazi and Kazi Tea Estate Ltd." লিখে লোকেশন খুঁজে পাওয়া যায়।


ঘ) ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

অক্টোবর থেকে মার্চ মাস হলো চা বাগান ভ্রমণের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়:

👉🏿আবহাওয়া ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক।

👉🏿চা গাছে নতুন কুঁড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

👉🏿আকাশ পরিষ্কার থাকে, তাই আশপাশের পাহাড় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়।

☔ বর্ষাকালে যাওয়া গেলেও কাদা ও অসুবিধা হতে পারে।

ঙ) থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা।

🛏️ থাকার ব্যবস্থা:

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো: অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আদর্শ স্থান।

স্থানীয় হোটেল ও গেস্ট হাউস: যেমন

👉🏿TGB Rest House

👉🏿Motel Teesta (BPC)

কিছু ইকো-রিসোর্ট ও কটেজও রয়েছে তেঁতুলিয়ায়।


🍽️ খাবারের ব্যবস্থা:

👉কাজি এন্ড কাজি চা বাগানের নিজস্ব ক্যাফে রয়েছে – যেখানে তাদের বিভিন্ন ধরনের চা ও হালকা স্ন্যাকস পাওয়া যায়

👉তেঁতুলিয়া বাজারে লোকাল রেস্টুরেন্টে ভাত, মাংস, মাছ, পরোটা, ডিম, চা পাওয়া যায়।

👉চাইলে নিজে রান্নার ব্যবস্থাও নেওয়া যায় কিছু গেস্ট হাউসে।


🕌 মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ:Mirzapur Shahi Jame Masjid – ইতিহাসের ছোঁয়ায় এক আধ্যাত্মিক নিদর্শন।

মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ:Mirzapur Shahi Jame Masjid – ইতিহাসের ছোঁয়ায় এক আধ্যাত্মিক নিদর্শন।

মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ,পঞ্চগড়।


মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি বাংলার ইতিহাস, ইসলামি সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের এক মূল্যবান নিদর্শন। পঞ্চগড় ভ্রমণে গেলে এই মসজিদটি না দেখলে ভ্রমণ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যশৈলীতে অনন্য মসজিদ। ধারণা করা হয়, এটি ১৮শ বা ১৯শ শতকে নির্মিত, এবং এর স্থাপত্যে মুঘল ও বাংলার মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব লক্ষণীয়।
সুন্দর নকশা, লাল ইটের ব্যবহার, এবং একাধিক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের পাশাপাশি ইতিহাসপ্রেমীদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয়।


👉ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রাচীন স্থাপত্য দেখার আগ্রহে।
👉মসজিদের বিশুদ্ধ ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে।
👉স্থাপত্য ও ইসলামি সংস্কৃতির সংমিশ্রণ দেখতে।
👉ফটোগ্রাফি ও স্থাপত্য নিয়ে কাজ করা শিক্ষার্থী বা পর্যটকদের জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় স্থান।

ঢাকা → পঞ্চগড় → দেবীগঞ্জ → মির্জাপুর শাহী মসজিদ।

বাসে: By bus 👉 Green Line, Shyamoli, Nabil (সময় লাগে ১০–১২ ঘণ্টা)।
ট্রেনে:By train 👉পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (সময় ৯–১০ ঘণ্টা)।

লোকাল বাস/সিএনজি/ভাড়া গাড়িতে ৩০–৪৫ মিনিট

মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত; স্থানীয়ভাবে সহজেই যাওয়া যায়

📍 Google Maps-এ “Mirzapur Shahi Jame Masjid, Debiganj” লিখে লোকেশন পাওয়া যাবে।

সারা বছরই যাওয়া যায়, তবে:
👉শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে আরামদায়ক
👉আকাশ পরিষ্কার থাকে, তাই স্থাপত্য ভালোভাবে দেখা ও ফটোগ্রাফির জন্য উপযুক্ত
ঈদ বা ইসলামি উৎসবের সময় ভিন্ন আমেজ থাকে।


দেবীগঞ্জ বা পঞ্চগড় শহরে বেশ কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউস পাওয়া যায়:
👉Hotel Panchagarh Inn.
👉Motel Teesta (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন)।
👉TGB Rest House.

👉দেবীগঞ্জ বাজারে প্রচুর স্থানীয় খাবারের দোকান আছে, যেখানে ভাত-মাংস, মাছ, পরোটা-চা পাওয়া যায়।
👉পঞ্চগড় শহরে আরও উন্নত মানের রেস্টুরেন্ট ও হোটেল রয়েছে।

🏡 তেঁতুলিয়া ডাকবাংলা :Tetulia Dakbangla – কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রাকৃতিক ছোঁয়ায় এক অনন্য ঠিকানা।

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলা :Tetulia Dakbangla – কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রাকৃতিক ছোঁয়ায় এক অনন্য ঠিকানা।

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলা,পঞ্চগড়।

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলা শুধু একটি সরকারি বিশ্রামাগার নয়, এটি একটি ভ্রমণ-অনুভবের কেন্দ্র। নদী, পাহাড় ও কাঞ্চনজঙ্ঘার অভূতপূর্ব দৃশ্য একে করে তুলেছে প্রাকৃতিক প্রেমিকদের কাছে এক স্বর্গীয় গন্তব্য।
তেঁতুলিয়া ডাকবাংলা হলো পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বিশ্রামাগার। এটি মূলত ব্রিটিশ আমলের একটি সরকারি বিশ্রামাগার, যার অবস্থান মহানন্দা নদীর তীরে এবং এখানে দাঁড়িয়ে থাকলেই কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের শৃঙ্গ চোখে পড়ে।
বাংলাদেশের ভেতর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার একমাত্র এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হিসেবে এটি বিশেষ খ্যাতি পেয়েছে।


👉ভোরবেলায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অসাধারণ অভিজ্ঞতা নিতে।
👉নদীতীরের শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে।
👉ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য ও ইতিহাসে ভরপুর একটি স্থান দেখতে।
👉ছবির মত সুন্দর ভিউপয়েন্টে ছবি তুলতে, রিল বানাতে।
👉প্রকৃতিপ্রেমী, ফটোগ্রাফার ও নিরিবিলি পরিবেশ খোঁজার পর্যটকদের জন্য আদর্শ স্থান।

ঢাকা → পঞ্চগড় → তেঁতুলিয়া → তেঁতুলিয়া ডাকবাংলা

বাসে:By bus👉 Shyamoli, Green Line, Nabil, Hanif (সময় ১০–১২ ঘণ্টা)
ট্রেনে: By train👉পঞ্চগড় এক্সপ্রেস বা Ekota Express – রাতের যাত্রায় আরামদায়ক

👉লোকাল বাস, মাইক্রোবাস বা সিএনজিতে ১.৫–২ ঘণ্টা।
👉তেঁতুলিয়া বাজার থেকে ডাকবাংলো:
অল্প সময়েই পায়ে হেঁটে বা রিকশায় পৌঁছানো যায়।

📍 লোকেশন: মহানন্দা নদীর পাড়ে, তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের কাছে।


👉অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি – এই সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কারভাবে দেখা যায়,
👉শীতকালে ভোরবেলা (৫:৩০–৭:০০) সময়টি সর্বোত্তম, কারণ সূর্যের আলো কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় পড়লে সোনালি রঙে ঝলমল করে ওঠে।
☁️ বর্ষাকালে কুয়াশা ও মেঘের কারণে দৃশ্য মিস হতে পারে।


তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো (সরকারি):
বুকিং করে থাকা যায়, পরিচ্ছন্ন ও কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউসহ ঘর রয়েছে।

➤ বুকিং নিতে হয় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি বা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে

বেসরকারি হোটেল/গেস্ট হাউস:
👉TGB Rest House.
👉স্থানীয় কিছু কটেজ বা হোমস্টে রয়েছে।

তেঁতুলিয়া বাজারে লোকাল রেস্টুরেন্ট আছে, যেখানে পাওয়া যায়:
👉ভাত, ডাল, মাংস, দেশি মাছ,
👉সকালের নাস্তা: পরোটা, সবজি, ডিম, চা
👉লোকাল চা স্টল ও “পাহাড়ি চা” স্বাদ নেওয়ার মতো।

🏰 ভিতরগড় দুর্গনগরী:Bhitargarh Fort City – উত্তর বাংলার প্রাচীন সভ্যতার এক নিদর্শন।

ভিতরগড় দুর্গনগরী:Bhitargarh Fort City – উত্তর বাংলার প্রাচীন সভ্যতার এক নিদর্শন।

ভিতরগড় দুর্গনগরী,পঞ্চগড়।

ভিতরগড় দুর্গনগরী শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, এটি এক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার জীবন্ত সাক্ষ্য। ইতিহাসপ্রেমী, পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের জন্য এটি এক অপার সম্পদ। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যকে জানতে চাইলে ভিতরগড় হওয়া উচিত আপনার ভ্রমণ তালিকার এক নম্বরে।

ভিতরগড় দুর্গনগরী পঞ্চগড় জেলার একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, যা বাংলার অন্যতম প্রাচীন দুর্গনগর হিসেবে খ্যাত। এটি প্রায় ৫ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যকার সময়কালের বলে ধারণা করা হয়। ভিতরগড় ছিল একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও সামরিক কেন্দ্র।

এখানে রয়েছে মাটির দেয়ালঘেরা দুর্গ, খননকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, প্রাচীন কূপ, সিঁড়ি ও মন্দির-ভগ্নাবশেষ। বাংলাদেশে এত বড় প্রাচীন দুর্গনগরের নিদর্শন খুব কমই পাওয়া যায়, যা একে জনপ্রিয় করে তুলেছে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বপ্রেমীদের কাছে।


👉বাংলার প্রাচীন দুর্গনগরের বাস্তব নিদর্শন দেখা।
👉প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ।
👉ইতিহাস ও সংস্কৃতির চর্চা ও জানার জায়গা হিসেবে।
👉প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দুর্গ প্রাঙ্গণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
👉ফটোগ্রাফার ও ব্লগারদের জন্য একটি চমৎকার লোকেশন।

ঢাকা → পঞ্চগড় → ভিতরগড়, চন্ডাহাট ইউনিয়ন, পঞ্চগড় সদর।

বাসে:By bus👉 Shyamoli, Nabil, Green Line – সময় ১০–১২ ঘণ্টা।
ট্রেনে:By train👉 পঞ্চগড় এক্সপ্রেস – রাতের ট্রেনে আরামদায়ক যাত্রা।

👉লোকাল সিএনজি/মোটরসাইকেল/মাইক্রোবাসে ৩০–৪৫ মিনিট।
অবস্থান:👉 চন্ডাহাট ইউনিয়নের ভেলুয়া ও পাথরাজ নদীর পাশে।

📍 Google Maps-এ “Bhitargarh Fort City” লিখলেই লোকেশন পেয়ে যাবেন

👉অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময় হলো ভিতরগড় দুর্গনগরী ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
👉শীতকালে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে ও খোলা আকাশে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো ভালোভাবে দেখা যায়।
👉বর্ষাকালে যাতায়াতে কিছুটা কষ্ট হতে পারে, বিশেষ করে কাঁচা রাস্তার কারণে


পঞ্চগড় শহরে থাকতে হবে, কারণ ভিতরগড় এলাকায় সরাসরি থাকার ব্যবস্থা নেই

পঞ্চগড় শহরে পাওয়া যায় দেশীয় খাবারের ভালো রেস্টুরেন্ট:
👉ভাত, মাংস, মাছ, ডাল
👉সকালের নাস্তা: পরোটা, ডিম, সবজি, চা

ভিতরগড় এলাকায় লোকাল চায়ের দোকান বা হালকা খাবারের দোকান ছাড়া বড় ব্যবস্থা নেই, তাই খাবার সাথে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট:Banglabandha Zero Point – চার দেশের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের শেষ সীমানা।

বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট,পঞ্চগড়।

বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট শুধু একটি ভূ-রাজনৈতিক সীমা নয়, এটি বাংলাদেশের ভ্রমণমানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। একসাথে চার দেশের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে থাকার যে অনুভূতি, তা যে কোনো ভ্রমণপিপাসুর জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।

বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত, যা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান – এই চার দেশের সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত।

এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর, যেখান দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক আসা-যাওয়া করে এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপন করে। পাশাপাশি, দেশের "শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে" ছবি তোলা এবং চার দেশের সীমান্ত ঘেঁষে দাঁড়ানোর এক বিরল অভিজ্ঞতা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।


পর্যটকরা বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে ঘুরতে যান কারণ:
👉দেশের একদম উত্তরের সীমানা ঘেঁষে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা নিতে,
👉ভারত, নেপাল, ভুটান সীমান্তঘেঁষা দৃশ্য দেখতে,
👉সীমান্তবর্তী বাণিজ্যিক জোন এবং ট্রাক পারাপারের দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে,
👉কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় এখান থেকেও — বিশেষ করে শীতকালে,
👉স্মরণীয় ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য (যা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব জনপ্রিয়)।

ঢাকা → পঞ্চগড় → তেঁতুলিয়া → বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট।

বাস:By bus 👉 Green Line, Shyamoli, Hanif, Nabil – সময় ১০–১২ ঘণ্টা
ট্রেন:By train👉পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (সন্ধ্যায় ছেড়ে সকালে পৌঁছায়)

👉লোকাল বাস/সিএনজি/মাইক্রোবাস – সময় ১.৫–২ ঘণ্টা
👉তেঁতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট:
👉সিএনজি বা অটোরিকশায় মাত্র ১৫–২০ মিনিটের পথ

অবস্থান:👉 তেঁতুলিয়া উপজেলায়, ভারত সীমান্তঘেঁষা এলাকা -
🛂 বর্ডার এলাকা হওয়ায় ভেতরে ঢুকতে হলে প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন (বিশেষ করে মূল সীমান্ত লাইনের খুব কাছে যেতে চাইলে)।

👉অক্টোবর থেকে মার্চ মাস হলো আদর্শ সময়, এই সময়:
👉আকাশ পরিষ্কার থাকে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়,
👉বর্ডার এলাকায় বৃষ্টি বা কাদা হয় না,
👉শীতকালে জনসমাগম বেশি হয়, তাই পরিবেশ প্রাণবন্ত থাকে।


তেঁতুলিয়া উপজেলায় বেশ কিছু গেস্ট হাউস ও রেস্ট হাউস রয়েছে:
👉তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো (সরকারি)
👉TGB Rest House
👉ছোট ইকো কটেজ বা হোমস্টে

👉Hotel Panchagarh Inn.
👉Hotel Tangon.
👉Motel Teesta (BPC).

তেঁতুলিয়া বাজারে লোকাল খাবারের দোকান আছে:
👉সকালের নাস্তা: পরোটা, ডিম, চা
👉দুপুর/রাতের খাবার: ভাত, মাংস, মাছ, ডাল

ভ্রমণের সময় নিজে হালকা খাবার ও পানি সাথে নেওয়া ভালো, কারণ জিরো পয়েন্ট এলাকায় খাবারের দোকান সীমিত।

🕍পঞ্চগড় রকস মিউজিয়াম:Panchagarh Rocks Museum – বাংলার ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের অনন্য সংগ্রহশালা।

পঞ্চগড় রকস মিউজিয়াম:Panchagarh Rocks Museum – বাংলার ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের অনন্য সংগ্রহশালা।

পঞ্চগড় রকস মিউজিয়াম।

পঞ্চগড় রকস মিউজিয়াম শুধু একটি জাদুঘর নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। শিক্ষার্থী, গবেষক, বা সাধারণ পর্যটক—সবাই এই মিউজিয়াম থেকে কিছু না কিছু শিখে ফেরে। পঞ্চগড়ে ভ্রমণ করলে এই অনন্য জাদুঘরটি একবার ঘুরে দেখা অবশ্যই উচিত।

👉পঞ্চগড় রকস মিউজিয়াম বাংলাদেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর, যা পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত।
👉এটি জনপ্রিয় কারণ এখানে সংরক্ষিত আছে হাজার বছরের পুরনো নানা ধরনের পাথর, জীবাশ্ম, খনিজ পদার্থ, এবং ভূতাত্ত্বিক নমুনা।
👉এই মিউজিয়ামটি পঞ্চগড় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও ভূতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। একে বাংলাদেশের ভূ-ঐতিহ্যের জীবন্ত সংগ্রহশালা বললে ভুল হবে না।


👉প্রাকৃতিক ইতিহাস ও ভূবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার আগ্রহে,
👉বাংলার প্রাচীন পাথর ও খনিজ সম্পদ দেখার জন্য,
👉গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা কেন্দ্র,
👉অভ্যন্তরীণ এবং শিক্ষামূলক ট্যুর আয়োজনের জন্য,
👉ফটোগ্রাফি ও জাদুঘর প্রেমীদের জন্য আদর্শ স্থান,

ঢাকা → পঞ্চগড় শহর → পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ → রকস মিউজিয়াম।

বাসে:By bus 👉 Shyamoli, Nabil, Hanif, Green Line (১০–১২ ঘণ্টা),
ট্রেনে:By train 👉 পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (সন্ধ্যায় ছেড়ে সকাল বেলা পঞ্চগড় পৌঁছায়)

👉রিকশা, অটো বা টেম্পুতে খুব সহজেই মহিলা কলেজে পৌঁছানো যায়,
👉জাদুঘরটি কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবস্থিত।

📍 Google Maps-এ “Panchagarh Rocks Museum” লিখলেই সঠিক লোকেশন পাওয়া যাবে

সারা বছরই মিউজিয়াম খোলা থাকে, তবে:
👉শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) হলো সবচেয়ে আরামদায়ক সময়,
👉স্কুল-কলেজের ছুটির সময় ট্যুরিস্ট ভিড় বেশি হয়,
👉সরকারি ছুটির দিন বা শুক্রবারে মিউজিয়াম বন্ধ থাকতে পারে, তাই আগে থেকে সময় জেনে নেওয়া ভালো।


পঞ্চগড় শহরে অনেক হোটেল ও গেস্ট হাউস আছে:
👉Hotel Panchagarh Inn.
👉Motel Teesta (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন)।
👉Hotel Tangon.
👉Hotel Hill Town.
.
শহরের ভেতরে দেশীয় ও চাইনিজ খাবারের বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে:
👉স্থানীয় খাবার: ভাত, মাংস, মাছ, ডাল
👉নাস্তার জন্য: পরোটা, সবজি, ডিম, চা
👉কিছু হোটেলে কফি, ফাস্ট ফুড, স্ন্যাকস পাওয়া যায়।

🏰 ভিটরগড়:(Bhitargarh) – বাংলার প্রাচীন দুর্গনগরীর নিঃশব্দ সাক্ষ্য।

ভিটরগড়:(Bhitargarh) – বাংলার প্রাচীন দুর্গনগরীর নিঃশব্দ সাক্ষ্য।

ভিটরগড়:(Bhitargarh),পঞ্চগড়।

ভিটরগড় প্রত্নস্থল বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষ্য। যারা বাংলার প্রাচীন সভ্যতা, দুর্গনগরী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সৌন্দর্য ও ইতিহাসে আগ্রহী, তাদের জন্য ভিটরগড় এক অনন্য গন্তব্য। প্রকৃতি, নীরবতা, এবং ইতিহাস – এই তিনের অপূর্ব মেলবন্ধন পাওয়া যায় এখানে।

👉ভিটরগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন দুর্গনগরী হিসেবে পরিচিত, যা পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত।
👉এটি জনপ্রিয় মূলত এর আধা-ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গ, প্রাচীন স্থাপত্য, ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যর কারণে।
এখানে খননকার্য চালিয়ে বিভিন্ন মৃৎপাত্র, ইটের নির্মাণ, নগর প্রাচীর, ও ধর্মীয় স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
👉বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আনুমানিক ৫০০–৮০০ বছর আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গনগরী।


👉বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখার আগ্রহে’
👉দুর্গনগরীর নগর প্রাচীর ও প্রাচীন ইট নির্মাণ পর্যবেক্ষণ করতে’
👉ইতিহাসপ্রেমী, শিক্ষার্থী, গবেষক, ও সংস্কৃতিমনাদের জন্য এটি একটি রত্ন’
👉প্রকৃতির নীরবতায় ঘেরা নির্জন ও ঐতিহাসিক পরিবেশ উপভোগ করতে’
👉ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি এক চমৎকার লোকেশন।

ঢাকা → পঞ্চগড় শহর → অমরখানা → ভিটরগড় প্রত্নস্থল।

ট্রেনে:By train 👉পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (ঢাকা কামালাপুর → পঞ্চগড়, ৯–১০ ঘণ্টা)
বাসে:By bus 👉 Shyamoli, Hanif, Nabil, Green Line ইত্যাদি (১০–১২ ঘণ্টা)

👉লোকাল বাস, অটো বা সিএনজি ব্যবহার করে যেতে হবে,
👉পঞ্চগড় সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১৫–২০ কিমি দূরে, সময় লাগে ৩০–৪৫ মিনিট।

📍 Google Maps-এ “Bhitargarh Archaeological Site” লিখলে সহজেই লোকেশন পাওয়া যায়।

👉অক্টোবর থেকে মার্চ (শীতকাল) হলো সবচেয়ে ভালো সময়:
👉আবহাওয়া শুষ্ক ও আরামদায়ক,
👉চারপাশ সবুজ থাকে, ফলে ভ্রমণ ও ফটোগ্রাফি উপভোগ্য হয়,
👉বর্ষায় কাদাযুক্ত হওয়ায় যাওয়া কিছুটা কষ্টকর হতে পারে।


👉পঞ্চগড় শহরে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে:
👉Hotel Panchagarh Inn.
👉Motel Teesta (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন)।
👉Hotel Hill Town.
👉Hotel Tangon.


👉শহরের রেস্টুরেন্টে দেশীয় খাবার পাওয়া যায়:
👉দুপুরের খাবার: ভাত, মাছ, মাংস, ভর্তা, ডাল,
👉হালকা খাবার: পরোটা, চা, সিঙ্গারা, চপ,
👉স্থানীয় বাজারেও ছোট খাওয়ার দোকান পাওয়া যায়, তবে বড় পরিসরের খাওয়ার জন্য শহরের দিকেই যাওয়া উত্তম।

🌟 বারআউলিয়ার মাজার ও গোলকধাম মন্দির – পঞ্চগড়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিলনস্থল।

বারআউলিয়ার মাজার ও গোলকধাম মন্দির – পঞ্চগড়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিলনস্থল।

বারআউলিয়ার মাজার,পঞ্চগড়।

বারআউলিয়ার মাজার ও গোলকধাম মন্দির শুধুমাত্র ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনের এক জীবন্ত উদাহরণ। যারা ধর্ম, ইতিহাস, শান্ত পরিবেশ এবং ঐতিহ্যের সন্ধানে ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য।

ক) কেন জনপ্রিয়?

বারআউলিয়ার মাজার:

👉এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র ইসলামিক ধর্মীয় স্থান।

👉মাজারে ১২ জন ওলির কবর আছে বলে ধারণা করা হয়, যাদের সম্মানে জায়গাটির নাম "বারআউলিয়া"।

👉স্থানীয় জনগণের মধ্যে এটি বিশ্বাস, সম্মান ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক।

গোলকধাম মন্দির:

👉এটি একটি প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় মন্দির, যা ভক্ত গোলক গোপাল ঠাকুরের নামে পরিচিত।

👉মন্দিরটি স্থাপত্যে সুন্দর, ঐতিহাসিক, এবং হিন্দু ধর্মালম্বীদের কাছে একটি পবিত্র তীর্থস্থান।

👉প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এখানে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন।


খ) পর্যটকরা কেন ঘুরতে যায়?

👉দুইটি ধর্মের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কাছ থেকে দেখার ও অনুভব করার সুযোগ।

👉ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে এক চমৎকার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।

👉আধ্যাত্মিক প্রশান্তি, মানত করা, ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণের জন্য।

👉ফটোগ্রাফি, গবেষণা বা ধর্ম ও সমাজ নিয়ে আগ্রহীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য।


গ) কিভাবে যাওয়া যায়?

ঢাকা → পঞ্চগড় শহর → বারআউলিয়া ও গোলকধাম।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়:

🚆 ট্রেনে: By train. পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৯–১০ ঘণ্টা),

🚌 বাসে:By bus. Shyamoli, Hanif, Nabil (১০–১২ ঘণ্টা)।


পঞ্চগড় শহর থেকে গন্তব্য:

👉বারআউলিয়া ও গোলকধাম মন্দির সাধারণত আটোয়ারী উপজেলায় অবস্থিত (প্রায় ১৫–২০ কিমি দূরে)।

👉লোকাল বাস, সিএনজি বা মাইক্রোবাসে সহজে যাওয়া যায়।

📍 Google Maps-এ “Bar Aulia Mazar, Panchagarh” এবং “Golok Dham Temple” সার্চ করে সঠিক লোকেশন পাওয়া যাবে।


ঘ) ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

ধর্মীয় ও উৎসবকেন্দ্রিক স্থাপনা হওয়ায় সারা বছরই দর্শনযোগ্য, তবে:

👉শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক

👉বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ওরসের সময় বেশ ভিড় হয়, তখন এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়


ঙ) থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা।

🛏️ থাকার ব্যবস্থা:

পঞ্চগড় শহরে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্ট হাউজ রয়েছে:

👉Hotel Panchagarh Inn.

👉Hotel Tangon.

👉Motel Teesta (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন)।

👉TGB Guest House.


🍽️ খাবারের ব্যবস্থা:

শহরের মধ্যে দেশীয় খাবারের রেস্টুরেন্ট ও হোটেল রয়েছে:

👉খাবার: ভাত, মাছ, মাংস, ডাল, ভর্তা

👉হালকা খাবার: চা, পরোটা, সিঙ্গারা, চপ

আটোয়ারী ও আশপাশের এলাকাতেও ছোটখাটো খাবারের দোকান পাওয়া যায়, তবে শহরে খাবার উন্নত মানের।

🏜 বিনোদন ও স্মৃতিচেতন কারতোয়া নদী, শের-ই-বাংলা পার্ক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

বিনোদন ও স্মৃতিচেতন কারতোয়া নদী, শের-ই-বাংলা পার্ক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

শের-ই-বাংলা পার্ক,পঞ্চগড় ।

ক) কেন জনপ্রিয়?

করতোয়া নদী হলো পঞ্চগড় অঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক গুরুত্বপূর্ণ নদী, যা কৃষি, প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

খ) পর্যটকরা কেন ঘুরতে যায়?

পর্যটকরা এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, নীরব নদীতটের দৃশ্য এবং স্নিগ্ধ পরিবেশে সময় কাটাতে যায়, যা ফটোগ্রাফি এবং শিথিলতার জন্য আদর্শ।

গ) কিভাবে যাওয়া যায়?

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় হয়ে জেলা শহরের কাছেই করতোয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো পৌঁছানো যায়।

ঘ) ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ও নদীর প্রকৃতি দেখার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক সময়।

ঙ) থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা।

পঞ্চগড়ে থাকার ও খাওয়ার প্রচলিত ব্যবস্থা রয়েছে, নদীর তীরে সরাসরি কোনো বিশেষ ক্যাম্প বা রিসোর্ট নেই।

শের‑ই‑বাংলা পার্ক (Sher‑e‑Bangla Park, Panchagarh).

ক) কেন জনপ্রিয়?

পঞ্চগড়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পার্ক হিসেবে এটি পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য পছন্দের জায়গা। 

খ) পর্যটকরা কেন ঘুরতে যায়?

পার্কে আসলে পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা একার ভ্রমণে শান্তি, হাঁটা ও খোলা পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।

গ) কিভাবে যাওয়া যায়?

জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে এই পার্ক অবস্থিত—সহজে রিকশা বা পায়ে হেঁটে পৌঁছানো যায়। 

ঘ) ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

সারা বছর খোলা থাকে (২৪/৭), তবে সকাল বা বিকেলের সময় সবচেয়ে উপভোগ্য। 

ঙ) থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা।

নিকটে পঞ্চগড় শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে — সেরকম কোনো নিজস্ব খাবার বা কফি কর্নার পার্কে নেই।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (Central Shaheed Minar, Panchagarh).

ক) কেন জনপ্রিয়?

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভের একটি স্থানীয় কপি হলেও, এটি জাতীয় চেতনা ও ঐতিহাসিক অনুভূতির প্রতীক। 

খ) পর্যটকরা কেন ঘুরতে যায়?

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণে, সাংস্কৃতিক চেতনা ও প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে ইচ্ছুক ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসে।

গ) কিভাবে যাওয়া যায়?

পঞ্চগড় শহরের মধ্যেই অবস্থিত—স্থানীয় যাতায়াতের মাধ্যমে সহজেই পৌঁছনো যায়।

ঘ) ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

বিশেষ কোনো সময় নির্ধারিত নেই; তবে ২১ ফেব্রুয়ারি বা ভাষা দিবসে এখানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বেশি হয়।

ঙ) থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা।

পঞ্চগড় শহরে প্রচুর হোটেল ও রেস্টুরাঁ রয়েছে — শহীদ মিনার অভিমুখে এসে খাওয়া‑থাকা এবং থাকা সহজ। 

সারসংক্ষেপ টেবিল।

স্থানকেন জনপ্রিয়?কেন ঘুরতে যায়?
করতোয়া নদীপ্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব            সুন্দর দৃশ্য ও বিশ্রাম
শের‑ই‑বাংলা পার্কপরিচ্ছন্ন ও সবুজ পার্কপরিবারিক ও একাকী সময় কাটাতে
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারভাষা আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভসাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অনুভব

Post a Comment

0 Comments